বাংলাদেশি উদ্দ্যোক্তাদের ৭ টি কমন ভুল! (২০২৬ এর বাস্তবতা)
Back to Blog
Business6 min read

বাংলাদেশি উদ্দ্যোক্তাদের ৭ টি কমন ভুল! (২০২৬ এর বাস্তবতা)

একটা সত্যি কথা এই যে, বাংলাদেশের মতো ছোট্ট এই দেশেও ই কমার্স বা এফ কমার্স যাই বলেন এটা ২০২৬ সালে এসে এখন আর নতুন না কিন্তু আমাদের উদ্দ্যোক্তাদের মন মানসিকতা সেটা ঠিক সেই ২০১৬ সালে পড়ে আছে।  কেন বললাম কথাটা? 

আমাদের অধিকাংশ বিজনেসগুলা এখন এডসের কারণে ফেইল করতেছে বিষয়টা কিন্তু মোটেও এমন না আর। তারা খারাপ করছে জাস্ট বিকজ অফ কিছু স্ট্র্যাটেজিক ভুলের কারণে। আপনি যদি আসলেই সিরিয়াস হন এই বিষয়ে তাহলে আশা করি ২ মিনিট সময় নিয়ে পড়বেন👇

১. “Facebook Page থাকলেই Ecommerce চলবে” মাইন্ডসেট

এই লাইনটা কিছুদিন আগ পর্যন্ত সত্যি ছিল, কিন্তু AI এর এই যুগে এসে বিষয়তা আর মোটেও সত্য না। আজকে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া গুলাতে গিয়ে ঢুহ মেরে দেখেন। আপনার পেজের রিচকে এককথায় থামায় দেওয়া হইছে, এডসের খরচ দিনকে দিন বাড়তেছেই। আর এই সময়ে এসে মানুষ ওয়েবসাইট না থাকলে বিষয়টাকে কেমন যেন অবিশ্বাস ও মজার ছলেই দেখে। 

আর বাংলাদেশের বেশিরভাগ কাস্টমাররাই কিন্তু এখন আপনার সার্ভিস বা প্রোডাক্ট নেওয়ার আগে আপনার সম্পর্কে একবার হলেও গুগল কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্চ করবে। 

আপনার ওয়েবসাইট নাই যদি থাকে প্রথমেই আপনি ক্রেডিবিলিটির দিক দিয়ে কিছুটা হলেও পিছায় পড়বেন। আপনার কনভার্শনের জায়গা না থাকলে আপনি নিশ্চিত কিছুটা সেলস ড্রপ করতেছেন এটা আপনার মানা লাগবেই। কারণ, বাস্তবতা এই যে, 

সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে ট্রাফিক এনে দিলেও বেটার কনভার্শন হওয়ার জন্য কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট থাকাটা চাই!

২. Website আছে, কিন্তু কোনো প্ল্যান নাই

প্রথম কারণের পর অধিকাংশ মানুষদের মনে প্রশ্ন আসবে যে: “ভাই, website তো আছে” কিন্তু তাও যে সেলস নাই! 

কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে তাদের কোন ক্লিয়ার কাট CTA নাই! একজন ইউজার এসে কি করবে তার কোন ঠিক নাই। কোন ফানেল করা নাই। নাই কোন সেলস কনভার্টিং পেজ। তাদের মতে, হোমপেজ সবকিছু করতেছে কিন্তু আসলে সেলস যেটা আসল কাজ সেটাই হচ্ছে না। 

একটা মাইন্ডসেট ঠিক করা প্রয়োজন আর তা হচ্ছে One page = one goal. কারণ স্ট্রাকচার ছাড়া অপ্রিয় উপায়ে আসা ট্রাফিক আপনার কনভার্সন বাড়াবে না বরং আপনার বাজেট বাড়াবে এবং নষ্ট করবে। 

৩. ডিস্কাউন্ট ফোকাসড বিজনেস মডেল

আপনার প্রতিটা পোস্টেই আপনি হাজির হন “Flash Sale 🔥” কিংবা “70% Off 😱” "আজকেই নিন; এই অফার আর পাবেন না"। ফলাফল কি হয় এটা আর আন্দাজ করা কঠিন কিছু না। এর ফলে আপনি কপালে জুটে

- লো কোয়ালিটি সস্তা কাস্টমার (কাস্টমারদের খাটো করছি না; কিন্তু বাস্তব আসলে এটাই) 

- ফেইক অর্ডারের পরিমাণ হুহ হুহ করে বাড়ে

- ব্র‍্যান্ড লয়ালিটির পরিমাণ শুন্যের কোঠায় দাঁড়ায় কেননা আপনি নিজেই নিজের ব্র্যান্ডকে সস্তা বানাচ্ছেন

বাংলাদেশের মার্কেটে নিজেকে, নিজের প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যান্ড বানাতে চাইলে প্রাইস কাট বা ডিস্কাউন্ট থেকেও বড় যেই বিষয়টা দরকার সেটা হচ্ছে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন 

করা, কাগজে কলমের পাশাপাশি বাস্তব কাজেতেও স্বচ্ছতা বজায় রাখা। 

আপনার একমাত্র অস্ত্র যদি ডিস্কাউন্ট দেওয়া ই হয় তাহলে তো আখেরে আপনি আপনার মার্জিনকে আগে থেকেই মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিচ্ছেন।

৪. চেকআউট এক্সপেরিয়ান্স কে অবহেলা করা

প্রতিটা সিরিয়াস ফাউন্ডার বা উদ্দ্যোক্তাই

- লোগো

- ব্যানার

- এডস 

সবকিছুকেই প্রপার ভাবে অপ্টিমাইজড করে দারুণ ব্র্যান্ড বানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের মধ্যে বেশিরভাগ একটা কমন মিস্টেক করে থাকে আর সেটা হচ্ছে তাদের ওয়েবসাইটে থাকা চেকআউট পেজটাকে তারা ডিফল্ট চেকআউট পেজ হিসেবে রেখে দেয়। কেন দেয় এটা উনারাই ভালো জানেন হয়তো। যাই হোক, 

ইউজার অত্যাধিক ফিল্ড যেমন (Address Line 2, State, Postcode, Country) এগুলা ইউজারকে ডাইভার্ট করে দেয় অন্যদিকে। এককথায় বিরক্ত হয়ে যায় ইউজার। এছাড়াও ফ্লো ঠিক থাকে না; তারুপর মোবাইল ফ্রেন্ডলি চেকআউট পেজ না হওয়ার কারণে বেশিরভাগ সময়েই সব কিছু ঠিক থাকার পরও সেলস ড্রপ করে। এটা যে silent sales killer এটা তারা খুনাক্ষরেও টের পায় না। 

৫. ওয়েবসাইট ডিবাগ ফ্রি হওয়ার আগেই এডস চালানো

এটা সবচেয়ে বড় ডলার বার্নের রিজন। কারণ দেখা যায়, যখন এডস চলে তখন ই 

- সাইট হয়ে যায় স্লো 

- প্রোডাক্ট পেজে যাওয়ার জন্য ৩-৪ বার ক্লিক করতে হয়

- বিভিন্ন লেআউট ভেঙ্গে যায়

- সাইটের অভ্যন্তরীন বাগ দেখা যায়

যা সলভ না করে এডস চালালে ইউজারের মন থেকে ট্রাস্ট করার সিগন্যালটাই গায়েব হয়ে যায়। আর এডস চালালে এই ইস্যু সলভ হওয়া তো দূরে থাক, এগুলা জানান দেয় মানুষকে দ্রুত যার দরুণ পটেনশিয়াল কাস্টমাররাও দূরে সরে যায়। তাই একটা নীতি মনে রাখা দরকার আর সেটা হচ্ছে, 

স্কেল করার আগেই বাগ ফ্রি অপ্টিমাইজড করুন সবকিছু!

৬. সবকিছুই উদ্দ্যোক্তার নিজে করতে যাওয়া

উদ্দ্যোক্তা একলাই ওয়ান ম্যান আর্মি হতে যায়। সে একাই কাস্টমার সাপোর্ট টিমের মেম্বার হয়ে যায়, একাই মার্কেটিং করে, একাই ওয়েবসাইট বানাতে চায় আবার ডেলিভারির জন্য প্যারা নিতে উনি নিজেই প্যারায় পড়ে যায়। যার ফলে দেখা যায় অতি দ্রুতই উনি মার্কেট থেকে বার্নআউট হয়ে যান। এক্ষেত্রে দুইটা জিনিস লক্ষ্য করা যায়, 

- স্লো গ্রোথ বা নো গ্রোথ

- সিস্টেমের তোয়াক্কা নাই

আর সিস্টেম ঠিক না থাকলে বিজনেস গ্রো হয় না কারণ ব্যবসা বড় হয় সিস্টেম সঠিক ভাবে সচল থাকলে। যখন এটার গড়বড় হয় তখন সবকিছু উলোটপালোট হয়ে যায়। 

৭. Long-Term Brand না ভেবে Short-Term Sales Chase 

বেশিরভাগ উদ্দ্যোক্তারা সবসময় একটা দিকে লক্ষ্য রাখে আর তা হচ্ছে

“এই মাসে কত sale?” তারা এটা ভাবে না যে এই মাসে তার 

- রিপিট কাস্টমার কয়জন হলো?

- তার ব্র্যান্ডের গ্রোথ কতটুকু হলো?

- কয়জন মানুষ তার ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানলো?

- কাস্টমাররা কেমন এক্সপেরিয়ান্স পেল?

আরও একটা বোনাস ভুল বর্তমান উদ্দ্যোক্তারা করছেন আর তা হচ্ছে ডেটাকে খুবই lightly নিচ্ছেন।

সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে ভুল জায়গায় ভুল ভাবে ডেটা ট্র্যাকিং করতেছেন। আপনারা assume করে নিচ্ছেন, মার্কেটে এটা ভালো চলে, তো তাইলে এটা দিয়েই শুরু করি। কখনো সেই জিনিসটার past report দেখেন না, সামনে থাকা potentiality কে চেক করেন না।

ফলাফল, দিনশেষে গালি খাচ্ছে Developer, Marketer আর Customer. ভুল যে আসলে করতেছেন স্বয়ং আপনি, এটা আপনার ভ্রুক্ষেপেই আসতেছে না। 

যাই হোক, সবশেষে এটা বলা যায় যে, বাংলাদেশের ই কমার্স ফিউচার নির্ভর করে,

  • ব্র্যান্ডের উপর, সস্তা কিছু পেজের উপর না।

  • যারা সিস্টেমকে প্রাধান্য দেয়, শর্টকাটকে না।

  • ই কমার্স এখন আর কোন Easy Money না, বরং এটা পুরোটাই system-based। 

  • ব্যবসা করাটা এখন আর কোন side hustle কিংবা শখ না বরং এটা হচ্ছে সিরিয়াস কমিটমেন্ট ও টিকে থাকার জায়গা।

  • অনলাইন কেনাবাচা আর analog না কারণ এটা এখন টোটালি Tech Driven ইন্ডাস্ট্রি। 

  • আর সবশেষে উদ্দ্যোক্তা মানেই এখন আর Post + inbox business না বরং আস্থা ও ব্র্যান্ড বিল্ড করার মক্ষম সুযোগ।

তাই আপনার ফাউন্ডেশন ঠিক করুন অন্যথায় স্কেল করতে গিয়ে আম ছালা দুইটাই হারাবেন। 

আর এখন নিজেকেই প্রশ্ন করুন, 

আপনি কি আদৌ একটা ব্যবসা রান করতেছেন? নাকি শুধু একটা পেজ নামকা ওয়াস্তে অন্য সবার মতো ব্যবহার করছেন?

পোস্টটা যদি সত্যিই আপনার ভিতরের জসবাকে ঠিক করে তাহলে হ্যা আপনি গ্রোথ নেওয়ার জন্য আসলেই তৈরি। শুরু এখন থেকেই করুন, আজকে থেকেই করুন।

ভালো লাগলে পোস্টটা সেইভ করুন কিংবা শেয়ার করুন এমন উদ্দ্যোক্তাদের সাথে যার ঘুম ভাংগা আসলেই দরকার।

Abid Hasan

Written by Abid Hasan

WordPress Lover | E-Commerce & Customer Support Specialist | Landing Page Designer

Get in Touch
Chat
Call NowWhatsApp